মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ রচনা ১২০০ শব্দের

এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনাদেরকে মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ রচনা ১২০০ শব্দের দিয়ে দেওয়া হবে। পোস্টটি পড়ার মাধ্যমে আপনারা রচনাটি খুব ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।

এখানে রচনাটি ভালোভাবে বুঝতে হলে অবশ্যই পুরো পোস্টটি সুন্দরভাবে মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে। তাহলে চলুন এখন আমরা এই রচনাটি পড়া শুরু করে দেই।

মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ রচনা ১২০০ শব্দের

আপনারা যাতে পরীক্ষায় কিংবা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় এই রচনাটি 1000 কিংবা ১২০০ শব্দের মধ্যে লিখতে পারেন সেই জন্য নিচে সুন্দরভাবে অনেকগুলো শব্দ ব্যবহার করে রচনাটি উপস্থাপন করা হলো।

ভূমিকা

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমেই মূলত বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। যদিও অনেক আগে থেকেই এই দেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য লড়ে এসেছে তবে ১৯৭১ সালেই আমরা সম্পূর্ণভাবে এই দেশকে স্বাধীন হিসেবে নিশ্চিত করতে পেরেছি।

আমাদের দেশের ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে এবং আমাদের মা ও বোনদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই বাংলাদেশকে আমরা স্বাধীন হিসেবে পেয়েছি।

দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীদের সাথে প্রাণপণ যুদ্ধ করার পরে আমরা এই দেশকে স্বাধীন করতে পেরেছি। ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ শুরু হয়েছিল এই স্বাধীনতার লড়াই এবং এটি সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে।

মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক পটভূমি

যদিও পাকিস্তানীদের সাথে আমাদের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সালে। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই এর অনেক ইতিহাস রয়েছে যা জানা জরুরী।

ভারতবর্ষ এবং বাংলাদেশ এই দেশগুলো মূলত ২০০ বছর আগে থেকে ইংরেজদের শাসনাধীন ছিল। নবাব সিরাজউদ্দৌলা এই উপমহাদেশ কে স্বাধীন করার লক্ষ্যে ইংরেজদের সাথে অনেক যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিলেন।

কিন্তু ১৭৫৭ সালের ২৩ শে জুন নবাব সিরাজউদ্দৌলার কাছের মানুষের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি ইংরেজদের সাথে তার পলাশীর যুদ্ধে পরাজয় বরণ করেন। যার কারণে আমাদের এই উপমহাদেশের স্বাধীনতার প্রদীপ নিয়ে যায়।

আর এই জন্য পরবর্তী মোট ২০০ বছর ইংরেজরা এই ভারতীয় উপমহাদেশ কে শাসন করে গিয়েছিল এবং আমরা তাদের অধীনে ছিলাম।

কিন্তু এই ২০০ বছরের মধ্যে এই উপমহাদেশে থাকা মানুষজন নিজে নিজেই স্বাধীনতার সংগ্রাম গড়ে তোলে এবং তারা নিজেরাই অনেক কষ্ট করে সেটাকে জাগ্রত করেছিল।

যার ফলস্রুতিতে ইংরেজরা এই উপমহাদেশ কে ছেড়ে যেতে বাধ্য হয় এবং তাদের শাসন বন্ধ করে।

আর এই ইংরেজরা উপমহাদেশ কে ছেড়ে যাওয়ার কারণেই ১৯৪৭ সালে ভারত উপমহাদেশে দুইটি ভাগে ভাগ হয় এবং দুইটি স্বাধীন রাষ্ট্রের তৈরি হয় । এই স্বাধীন রাষ্ট্রের দুটির নাম হচ্ছে পাকিস্তান এবং ভারত।

কিন্তু এই পাকিস্তান রাষ্ট্রের মধ্যে আবার দুইটি অংশ ছিল একটি হচ্ছে পূর্ব পাকিস্তান আরেকটি পশ্চিম পাকিস্তান। আর আমরা যারা এখন বাঙালি আছি তারা ছিলাম পূর্ব পাকিস্তানের অংশ।

ইংরেজদের শাসন নিপীড়ন শেষ হওয়ার পরেও পাকিস্তান এবং ভারত দুটি আলাদা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হলেও তখনও বাঙালিরা সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন রাষ্ট্র হতে পারেনি। কারণ পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের বাঙ্গালীদের ওপর নতুন করে শাসন এবং নিপীড়ন শুরু করে দেয়।

আরোও পড়ুনঃ পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা রচনা (২০ পয়েন্ট এবং ১৫ পয়েন্ট)

এমনকি তারা আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকেও করে নিতে চেয়েছিল। পাকিস্তানের মধ্যে যে পূর্ব পাকিস্তানের অংশটি ছিল এখানকার শতকরা ৫৬ জন মানুষের মুখের ভাষা ছিল বাংলা এবং পশ্চিম পাকিস্তানের শতকরা ৭ জনের ভাষা উর্দু হলেও পাকিস্তানী শাসকরা তৎকালীন সময়ে তাদের উর্দুকেই রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

কিন্তু এই অবিচার বাঙালিরা তখন মেনে নিতে পারেনি এর কারণে তারা এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে দেয় এবং আন্দোলন শুরু করে দেয়। এছাড়াও পূর্ব পাকিস্তানিদের ওপর নানান ধরনের নির্যাতন করতো তারা সবসময়।

যার ফলে আমাদের দেশের ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় রাস্তায় দুর্গ গড়ে তোলে এবং মিছিল নিয়ে বের হয় তাদের ভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে। এরই ফলশ্রুতিতে পাকিস্তানিদের সাথে একটি বিক্ষোভ শুরু হয় এবং পরবর্তীতে অনেক ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পরে আস্তে আস্তে পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে এটি যুদ্ধের মোর নেয়।

স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন

১৯৪৮ সালের প্রথম গভর্নর মোঃ আলী জিন্না মূলত পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দু কে নির্বাচন করেছিলেন। আর তখন থেকেই মূলত এই মুক্তিযুদ্ধের বীজ বপন শুরু হয়।

সেই সময়ে বাঙালিরা থেমে থাকলেও যখন আবারো ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে নির্বাচন করা হয় তখন বাংলাদেশের অপামার বাঙালিরা তাদের বিদ্রোহ গড়ে তোলা শুরু করে।

আর 1952 সালেই প্রথম “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই” এই স্লোগানটি অনেক বেশি পরিমাণে প্রচার করতে থাকে এবং এটি আরো শক্তিশালী হতে শুরু হয়। আর এই সময়ে আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের দেশের অনেক ছাত্র তাদের নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে দিয়েছে বাংলা ভাষার জন্য।

এই ছাত্র গুলোর মধ্যে মূলত যা দের নাম উঠে আসে তারা হলো সালাম বরকত রফিক জব্বর সহ আরো অনেক ছাত্র । পুরো পৃথিবীতে এমন কোন ইতিহাস নেই যেখানে কোন জাতি তাদের নিজের ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে। একমাত্র বাঙালিরাই তাদের নিজের ভাষাকে রক্ষা করার জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে দিতেও দুইবার ভাবেননি।

এরপর আরো বিভিন্ন ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পরে আমরা ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে আমাদের এই বাংলা ভাষাকে ফিরে পাই এবং সেই দিনটিকেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃত দেয় সরাসরি জাতিসংঘ থেকে।

এর পরবর্তীতে ১৯৬৫ সাল ১৯৬৬ সালে এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাগুলোর জন্যই মূলত মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ১৯৬৬ সালে প্রথম ছয় দফা আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং সেই সময়ে ১৯৬৮ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

কিন্তু তখন ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভ মিছিল এবং বিদ্রোহের কারণে তারা শেখ মুজিবুর রহমানকে কারাগারে আটকে রাখতে পারেনি সাথে সাথে আবার তাকে ছেড়ে দিতে হয়েছিল।

এর পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনের পরে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ ভাবে বিজয় অর্জন করে। কিন্তু ১৯৭১ সালে ২৫ শে মার্চ কাল রাতে তারা পরিকল্পিতভাবে আমাদের এই বাংলাদেশ অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে আক্রমণ করে।

যদিও তখন এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে ততটা জানে না । এই সুযোগে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী এই দেশের উপর অমানবিক নির্বাচন শুরু করে এবং অনেক নিরস্ত্র নিরীহ বাঙালি কে মে__রে ফেলে ।

তারা পরিকল্পিতভাবে এই নিরস্ত্র বাঙ্গালীদের ওপর আক্রমণ করে তাদের কাপুরুষতার পরিচয় দিয়েছে এবং অমানবিক একটি কাজ করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর ডাকে পুরো বাংলাদেশের মানুষ একজোট হয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীদের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য প্রতিজ্ঞা করেন।

মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি

হঠাৎ যখন পূর্ব পাকিস্তানের ওপর পাকিস্তানিরা আক্রমণ করে বসে তখন বাঙালিরা একদম দিশেহারা না হয়ে খুব সুন্দর ভাবে ঠান্ডা মাথায় তাদের প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

এখানে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল আতাউল গনি সাহেব এর নেতৃত্বে এই পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশকে মোট 11 টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। এদেশের যত সাধারণ বাঙালি ছিল এবং সেনাবাহিনী, আনসার বাহিনী পুলিশ সদস্য সহ সবাই একযোগে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ রচনা (২০ পয়েন্ট সহ)

বাঙালিরা যদিও তখন ও যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত ছিল না কিন্তু তারা এক এক করে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য সবগুলো অভিজ্ঞতা অর্জন করে এবং সমস্ত কিছু তাদেরকে শিক্ষা দেওয়া হয়।

বিভিন্ন পরিকল্পনা ও চতুরতার সাথে আমাদের দেশে থাকা জেনারেল সেনাপতি গুলো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীদেরকে এক এক করে দুর্বল করে দিতে থাকে। যদিও আমাদের তখন অত বেশি আধুনিক অস্ত্র ছিল না এর পরেও বাঙ্গালীদের বুদ্ধির কাছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা আস্তে আস্তে পরাজিত হতে থাকে। তখন বাঙালির ছিল একজোট এবং সবার ইচ্ছা ছিল একটাই যে আমাদের এই দেশকে স্বাধীন করতে হবে যে কোন মূল্যে।

ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন এর সহযোগিতা

এখানে বলাই বাহুল্য যে তৎকালীন সময়ে যদি ভারত আমাদেরকে সাহায্য না করত তাহলে হয়তো আজ আমরা পশ্চিম পাকিস্তানিদের নির্যাতনের শিকার হতেই থাকতাম।

তৎকালীন সময়ে ভারত আমাদেরকে প্রত্যক্ষভাবে সরাসরি সাহায্য করলেও সোভিয়েত ইউনিয়ন আমাদেরকে পরোক্ষভাবে অনেক বেশি সাহায্য করেছে। তৎকালীন শরীয়ত ইউনিয়ন বর্তমানে যাকে আমরা রাশিয়া হিসেবে চিনি।

আমাদের দেশের মা ও বোনরা এবং বাচ্চারা নির্যাতনের শিকার হতে হতে তারা পালিয়ে ভারতে যায় এবং ভারত সরকার তাদেরকে আশ্রয় প্রদান করে। তাদেরকে আশ্রয় প্রদান করা সহ খাবার এবং যাবতীয় সাহায্য গুলো করেছেন।

এমনকি সেই সময়ে ভারত থেকে এদেশ কে স্বাধীন করার জন্য অনেক অর্থ এবং অ**স্ত্র দিয়ে সাহায্য করা হয়েছিল । ভারতের সাহায্যে সাধারণ বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে থাকে এবং পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীদের বিপক্ষে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।

এই সময় যখন পাকিস্তানিরা বুঝতে পারে যে তারা এই যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারবে না তাদের হার নিশ্চিত হতে থাকে তখন তারা যুদ্ধকে পাক-ভারত যুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করে এবং বিশ্বমঞ্চে থেকে একটু সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে।

সেই সময়ে জাতিসংঘ থেকে যদিও এই যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু সোভিয়ত ইউনিয়ন অর্থাৎ বর্তমানে রাশিয়ার হস্তক্ষেপে তখন জাতিসংঘ এই যুদ্ধকে থামাতে ব্যর্থ হয়।

এছাড়াও সে সময় পাকিস্তানকে আরো বাইরের বিভিন্ন দেশ থেকে সাহায্য করার চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন সেই সাহায্যগুলোকে পাকিস্তান পর্যন্ত আসতে দেয়নি যার কারণে আমরা এটা বলতে পারি যে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বাংলাদেশকে স্বাধীন করার পিছনে অনেক বড় ভূমিকা পালন করেছে।

বিজয় অর্জন

দীর্ঘ নয় মাসে যুদ্ধ চলার পর যখন পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীরা বুঝতে পারে যে তাদের পক্ষে যায় বিজয় অর্জন করা সম্ভব নয় তখন তারা বাংলাদেশের নিকট আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিকাল ৪:৩১ মিনিটে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে আত্সমাপর্ন করে।

তৎকালীন সময়ে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান নিয়াজী তাদের ৯৩ হাজার সেনা সদস্য সহ আমাদের দেশের মুক্তিবাহিনী এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিকট এই আর্তসমার্পণ অনুষ্ঠানে সংগঠিত করেন।

বাংলাদেশের পক্ষে লেফটেনন জেনারেল জগজিৎ সিং এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পক্ষে লেফটেন্যান্ট নিয়াজী এই দুইজন সেই আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন। যার ফলে এই নয় মাস ধরে চলা যুদ্ধটি সমাপ্তি ঘোষনা করা হয় এবং আমরা এই দেশকে স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে উপহার পাই।

এই ঘটনার ফলশ্রুতিতে বিশ্ব মানচিত্রে লাল-সবুজের একটি নতুন দেশের নাম জন্ম নেয়, যার নাম হচ্ছে বাংলাদেশ এবং যার রাষ্ট্রভাষা হচ্ছে বাংলা।

উপসংহার

কথায় আছে স্বাধীনতা অর্জন করা যত বেশি কঠিন তার থেকেও বেশি কঠিন হচ্ছে এই স্বাধীনতাকে রক্ষা করা । যার কারণে আমাদের প্রত্যেককে চেষ্টা করতে হবে এই স্বাধীনতাকে রক্ষা করার জন্য ।

এদেশের একদম নিম্ন শ্রেণীর মানুষের রক্তের বিনিময়েই কিন্তু আমরা দেশকে স্বাধীন হিসেবে পেয়েছি। দেশের কৃষক, শ্রমিক, জেলে, তাতি, শিক্ষক, সেনাবাহিনী ,বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, লেখক সহ যত শ্রেণীর মানুষ আছে প্রত্যেকে এই স্বাধীন দেশকে গড়ার লক্ষ্যে নিজের জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছেন।

তারা যদি সেই সময়ে নিজের জীবনের বিসর্জন না নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করতো তাহলে আমরা এ দেশকে কখনো স্বাধীন হিসেবে পেতাম না। এই কারণে সব সময় আমাদের উচিত হবে তাদেরকে মনে রাখা এবং আমাদের স্মৃতিতে তাদেরকে ধরে রাখা।

আমরা যদি এই ইতিহাস গুলো ভালোভাবে না পরি তাহলে হয়তো স্বাধীনতা অর্জনের উদ্দেশ্যটায় বহাল থাকবে না। এই কারণে তাদেরকে অবশ্যই মন থেকে সম্মান করতে হবে এবং তাদের ইতিহাস গুলো আমাদেরকে জানতে হবে এবং একে অপরকে জানাতে হবে।

পোষ্টের শেষকথা

আজকের এই পোস্টে আমরা মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ রচনা ১২০০ শব্দের শেয়ার করেছি। এখানে একদম সাবলীল ও সহজ ভাষায় রচনাটি শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এমনভাবে রচনাটি উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের পরীক্ষায় এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় রচনাটিকে মানুষের সামনে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়। তো এই পোস্টটি ভালো লাগলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

স্বাধীনতা অর্জন করতে গিয়ে যে সমস্ত বাঙালিরা নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছে তাদের প্রতি সম্মান এবং শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে আজকের পোস্ট এখানেই শেষ করছি সবাই ভালো থাকবেন আসসালামু আলাইকুম।

Leave a Comment