আসরের নামাজ কয় রাকাত, সময়, নিয়ম ও নিয়ত

আসসালামু আলাইকুম, আপনি যদি অনলাইনের মধ্যে আসরের নামাজের সময় এছাড়াও আসরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু ও শেষ এবং আসরের নামাজ কয় রাকাত ও কি কি এগুলো সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে সহজ ভাষায় জানতে চান হলে আজকের পোস্ট আপনার জন্য ।

Table of Contents

এই পোস্টটি যদি আপনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে পারেন তাহলে আসরের নামাজের সম্পর্কে যাবতীয় ইনফরমেশন গুলো জেনে নিতে পারবেন। চলুন শুরু করি।

আসরের নামাজের সময়

আসরের নামাজ সম্পর্কে মানুষ যত বেশি আলোচনা করে তার মধ্যে সবথেকে বেশি আলোচনা করা হয় আসরের নামাজের সময় নিয়ে। প্রধান কারণ হচ্ছে আসরের নামাজের সময় অনেকেই বোঝেনা।

আপনাদেরকে আমরা সুন্দরভাবে কিছু মূলনীতি বলে দেবো যেগুলো অনুসরণ করলে আসরের নামাজের সময় সম্পর্কে মনের মধ্যে আর কোন প্রশ্ন থাকবে না। তাহলে নিচে এখন আপনাদের জন্য আসরের নামাজের সময় এর মূলনীতিগুলো আলোচনা করা হলো।

আসরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু ও শেষ

মনে রাখবেন যখন একটি নামাজের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায় তখন থেকে পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজের সময় শুরু হয়। এভাবে যখন আবার বর্তমান ওয়াক্তের নামাজ এর সময় শেষ হবে তখন পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজের সময় শুরু হয়ে যাবে।

তবে হ্যাঁ এখানে দিনের মধ্যে যে তিনটি সময় রয়েছে এই সময়গুলোতে কিন্তু কোন নামাজ আদায় করা সম্পূর্ণ হারাম রয়েছে।

যেহেতু আসরের নামাজের আগে রয়েছে যোহরের নামাজ এই কারণে আমরা বলতে পারি জোহরের ওয়াক্ত যখন থেকে শেষ হবে তখন থেকে মূলত আসরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে।

পড়তে পারেন: যোহরের নামাজ কয় রাকাত ও কি কি , সময় ও পড়ার নিয়ম

তো বন্ধুরা আসরের নামাজের সময় শুরু কখন হবে এটি বুঝার জন্য আপনাকে একটি মূলনীতি অনুসরণ করতে হবে। সেটি হলো:

✓ একটি যেকোন সাইজের কাঠি নিতে হবে। আর এই কাঠিটি অবশ্যই পরিষ্কার এবং সোজা নিবেন তাহলে বিষয়টি বুঝতে সুবিধা হবে।

✓ এরপর যেখানে খুব ভালো রোদ রয়েছে সেই রোদের কাছে গিয়ে কাঠিটিকে সুন্দরভাবে সোজা করে খাড়া করিয়ে দিতে হবে।

✓ এখন সরাসরি কাঠির ছায়ার দিকে লক্ষ্য করতে হবে। এখানে দেখতে হবে কাঠির ছায়াটি কতবর হয়েছে।

✓ কাঠির ছায়ার যে সাইজ রয়েছে সেই সাইজটি যদি কাঠির মূল সাইজ থেকে ২ গুণ বা আড়াই গুণ বড় হয়ে যায় তখন থেকে বুঝতে হবে আসরের ওয়াক্ত শুর হয়েছে।

আসরের নামাজের শেষ সময়

যখন থেকে মূলত আসরের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে তখন সেই সময়কেই আসরের নামাজের শেষ সময় হিসেবে গণ্য করা হবে। আসরের নামাজের সময় সম্পর্কে যেহেতু সঠিক ভাবে ধারণা থাকা আবশ্যক এই কারণে আসরের নামাজের শেষ সময় সম্পর্কেও আপনাদেরকে ভালোভাবে বুঝতে হবে।

উপরে কাঠি ব্যবহার করে আপনারা অবশ্যই আসরের ওয়াক্ত শুরু সম্পর্কে পড়ে এসেছেন। তো যখন থেকে কাঠির সাইজ আসরের নামাজের সময় এর মূলনীতির সাথে মিলে যাবে তখনই কিন্তু আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে।

কিন্তু এই ওয়াক্ত শুরু হয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত চলবে যতক্ষণ না সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় শুরু হবে। মনে রাখবেন যখনই সূর্য অস্ত যাওয়ার সময়টি শুরু হবে তখনই কিন্তু আসরের নামাজের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে।

এখানে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন হচ্ছে যখন সূর্য অস্ত যাওয়া শুরু করবে তখন কিন্তু কোন নামাজই পড়া যাবে না। অর্থাৎ সূর্য অস্ত যাওয়া শেষ হলে তখন পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজ এর সময় শুরু হবে ।

আজকের আসরের নামাজের সময়

যদি আপনি আজকের আসরের নামাজের সময় জানতে ইচ্ছুক হয়ে থাকেন তাহলে এখানে বেশ কয়েকটি পদ্ধতি অবলম্বন করে সময়টি জানতে পারবেন।

আপনি চাইলে সরাসরি google এ সার্চ করে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। কিন্তু যেহেতু গুগল সম্পূর্ণ টেকনোলজি বা বিভিন্ন এপিআই এর মাধ্যমে তথ্য প্রদান করে থাকে এই কারণে এটি সব সময় ঠিক নাও হতে পারে।

google এ সার্চ করার পাশাপাশি আপনি চাইলে মোবাইলে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করে রাখতে পারেন। তাহলে সেখানেও ঢুকে আপনার লোকেশন অনুযায়ী আজকের আসরের নামাজের সময় গুলো সঠিকভাবে দেখতে পারবেন।

উপরের এই পদ্ধতি গুলো ছাড়াও আপনি সরাসরি মোবাইলের সাহায্য না নিয়ে নিজে থেকেই আসরের নামাজের আজকের সময় বের করতে পারবেন। এর জন্য উপরে আমরা যেভাবে কাঠি ব্যবহার করে নামাজের সময়টি নির্ধারণ করা শিখিয়ে দিয়েছি সেই পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।

আসরের আজানের সময়

যে কোন নামাজের সময় যখন শুরু হয় তখনই মূলত এর আযানের সময়ও শুরু হয়ে যায়। তবে হ্যাঁ বিভিন্ন এলাকায় এই সময়টি ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।

যখন নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয় তার ২০ মিনিট অথবা ৩০ মিনিট আগে ও আযান দেওয়া হতে পারে। তবে হ্যাঁ বেশিরভাগ সময় যখন নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয়ে যায় তখনই সেই আযান ও দেওয়া হয়।

তো যখন দেখবেন জোহরের ওয়াক্ত শেষ হয়ে গেছে অর্থাৎ কোন বস্তুর ছায়া তার থেকে দ্বিগুণ বা আড়াই গুণ বড় হয়ে গেছে তখনই বুঝবেন যে আসরের নামাজের আজানের সময় হয়ে গেছে।

আসর নামাজ কয় রাকাত

আসরের নামাজের সময় সম্পর্কিত যাবতীয় প্রশ্ন গুলোর উত্তর উপরে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোন নামাজ পড়তে হলে অবশ্যই সেই নামাজের রাকাত সংখ্যা সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে ধারণা রাখতে হবে।

এখানে যদি আপনি আসরের নামাজ কয় রাকাত সেটিই না জানেন তাহলে কোনভাবেই আসর নামাজ আদায় করতে পারবেন না। যার কারণে নিচে প্রত্যেকটি পয়েন্ট এর মাধ্যমে আসরের নামাজের রাকাত সংখ্যা সম্পর্কে ডিটেইলস আলোচনা করা হলো।

আসরের নামাজ কয় রাকাত কি কি

বন্ধুরা মনে রাখবেন আসরের নামাজ হচ্ছে মোট আট রাকাত। এখানে অনেক সময় আমরা আট রাকাত এর মধ্যে চার রাকাত পড়ে অভ্যস্ত হয়ে যাই। এর কারণ হচ্ছে আসরের নামাজের মধ্যে মোট দুইটি নামাজের ভাগ আছে অর্থাৎ একটি হচ্ছে সুন্নত এবং আর একটি হচ্ছে ফরজ।

ফরজ নামাজ এবং সুন্নত নামাজ মিলেই আসরের নামাজ হয়েছে মোট ৮ রাকাত। তবে হ্যাঁ এখানে যেহেতু ফরজ নামাজ রয়েছে মূল চার রাকাত এই কারণে আমরা বেশিরভাগ মানুষ আসরের নামাজ চার রাকাত পড়েই অভ্যস্ত হয়ে থাকি।

৮ রাকাত এর মধ্যে প্রথমে রয়েছে চার রাকাত সুন্নত এবং পড়ে রয়েছে চার রাকাত ফরজ। এখানে এই সুন্নত নামাজ টি না পড়লেও কোন ধরনের সমস্যা হয় না। তাই অনেকেই এই নামাজটি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র আসরের ফরজ চার রাকাত নামাজ আদায় করে থাকে।

কিন্তু বন্ধুরা এটা না করে আমাদের উচিত অবশ্যই চার রাকাত সুন্নত নামাজ ও আদায় করা। যদি আমরা প্রথমের চার রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করি এবং পরে রাকাত ফরজ আদায় করি তাহলে আসরের নামাজ মোট ৮ রাকাতই পড়া হয়ে যাবে।

আসরের নামাজের নিয়ম

অন্যান্য নামাজ যেভাবে পড়া হয় আসরের নামাজ ও ঠিক একই নিয়ম অনুসরণ করে পারা যাবে। তবে শুধুমাত্র আপনাকে অবশ্যই রাকাত সংখ্যার প্রতি ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

প্রথমে আপনি নিজে নিজে চার রাকাত সুন্নত নামাজ আগে পড়বেন। এরপর আপনাকে ইমামের সাথে জামাতের মাধ্যমে পরবর্তী চার রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করে নিতে হবে।

আসরের চার রাকাত সুন্নত নামাজের নিয়ম

ফরজ নামাজ বাদে সুন্নত কিংবা নফল নামাজ প্রতিটি নামাজেই একা একা পড়তে হয়। এই সুন্নত নামাজগুলো বাড়িতে পড়াই উত্তম।

তো বন্ধুরা আসরের নামাজ সঠিকভাবে আদায় করতে হলে প্রথমে আপনাকে চার রাকাত সুন্নত নামায সুন্দরভাবে সঠিক নিয়মে আদায় করতে হবে।

✓ প্রথমে আসরের চার রাকাত সুন্নত নামাজের নিয়ত করতে হবে এবং তাকবীরে তাহরিমা বলে আপনার মাযহাব অনুযায়ী হাত বাঁধতে হবে।

✓ এরপর প্রথমে ছানা পড়বেন এবং পরবর্তীতে সূরা ফাতিহা ও কুরআনের আরো একটি সূরা তেলাওয়াত করবেন। পুরো একটি সূরা না পড়লেও বড় কোন একটি আয়াত অথবা ছোট মোট তিনটি আয়াত পাঠ করতে হবে।

✓ এরপর আপনি নামাজের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী রুকু করবেন এবং দুইটি সেজদা করে আবার দাঁড়িয়ে যাবেন।

✓ এভাবে আবারও সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা সুন্দরভাবে শুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করতে হবে । শুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করা হয়ে গেলে রুকু ও সাজদা করে সরাসরি বসতে হবে।

✓ এখানে বসার পর তাশাহুদ পড়বেন এবং তারপরে আবার ও সুন্দরভাবে দাঁড়িয়ে যাবেন। দাঁড়ানোর পর আগের দুই রাকাত এর নিয়ম অনুযায়ী সূরা ফাতেহা ও অন্য আরেকটি সূরা তেলাওয়াত করে শেষে আরেকটি বৈঠক দিবেন।

✓ এই বৈঠকে আপনাকে প্রথমে তাশাহুদ পাঠ করতে হবে এরপর দরুদে ইব্রাহিম এবং শেষে দোয়া মাসুরা পাঠ করে সালাম ফিরানোর মাধ্যমে নামাজ শেষ করতে হবে।

আসরের চার রাকাত ফরজ নামাজের নিয়ম

ছেলেদেরকে যেকোনো নামাজের ফরজ নামাজ টুকু অবশ্যই মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে আদায় করতে হবে। যদি কোন ভাবে গুরুতর সমস্যার কারণে মসজিদে না যেতে পারেন বা জামাত ধরতে না পারেন তাহলে অবশ্যই নিজে নিজে আদায় করে নিতেই হবে।

যাই হোক আপনাদেরকে এখন আমি সহজ ভাষায় আসরের চার রাকাত ফরজ নামাজের নিয়মটি সুন্দরভাবে বলে দিচ্ছি ।

✓ প্রথমে অবশ্যই আসরের ফরজ নামাজের নিয়ত করে নিতে হবে এবং যদি আপনি জামাতের সাথে আদায় করেন তাহলে ইমামকে অনুসরণ করে এই নামাজটিকে আদায় করতে হবে।

✓ যদি আপনি নিজে ইমাম হন তাহলে এখানে কিন্তু উচ্চস্বরে কেরাত পারা যাবে না অর্থাৎ মনে মনে কেরাত পড়তে হবে। আর যদি আপনি মুক্তাদি হয়ে থাকেন তাহলে ইমাম এর সাথে নামাজের কার্যক্রম সম্পন্ন করার পাশাপাশি সূরা ফাতিহা এবং অন্যান্য সূরা ও রুকু সাজদার তসবিহ গুলো ঠিকভাবে পড়বেন।

✓ আর হ্যাঁ এখানে ইমাম এর জন্য আরেকটি বিষয় বলে রাখতে হবে সেটা হচ্ছে আসরের নামাজের শেষে অর্থাৎ সালাম ফেরানোর পরে কিন্তু মুক্তাদির দিকে ঘুরে তারপর আরো বিভিন্ন দোয়া পড়তে হয়।

✓ আপনি নিজে নিজে আসরের চার রাকাত ফরজ নামায বাড়িতে পড়তে চাইলে ওপরে যেভাবে সুন্নত চার রাকাত নামাজ পড়া শেখানো হয়েছিল ঠিক সেভাবে আদায় করতে পারবেন।

✓ তবে হ্যাঁ কোন ফরজ চার রাকাত নামাজ আদায় করার ক্ষেত্রে শেষের দুই রাকাত নামাজে শুধুমাত্র সূরা ফাতিহা পড়ে রুকুতে যাওয়া যায়।

✓ এখানে অবশ্যই ফরজ ৪ রাকাত নামাজ পড়ার আগে এই আসরের ফরজ নামাজের নিয়ত টি করে নিতে হবে।

আসরের কাজা নামাজ পড়ার নিয়ম

কখনোই নিজের ইচ্ছাকৃতভাবে কোন নামাজ ত্যাগ করা যাবে না। তবে খুব বেশি যদি কোন সমস্যা হয় বা জীবন মর-ণের ব্যাপার হয় সে ক্ষেত্রে নামাজ কাজা করা যেতে পারে।

তবে নামাজ কাজা করলেও সেটার কিন্তু কোনো মাফ নেই। পরবর্তীতে আবার সেই নামাজটিকে পুনরায় আদায় করে নিতে হবে। এখানে কোন নামাজ মিস হয়ে গেলে কাজা নামাজ এর নিয়ম অনুসরণ করে নামাজটিকে পড়তে হয়।

যদি আসরের নামাজ ও কাজা হয়ে যায় তাহলে অবশ্যই আপনাদেরকে আসরের কাজা নামাজ পড়ার নিয়মটি ভালোমতো বুঝতে হবে এবং পরবর্তীতে এই নামাজটিকে সুন্দরভাবে আদায় করতে হবে।

মনে রাখবেন কোন নামাজ কাজা হয়ে গেলে পরবর্তীতে সেই নামাজ পড়ার আর কোন আলাদা নিয়ম নেই। শুধুমাত্র নামাজটিকে শুরু করার আগে কাজা নামাজের নিয়ত করে নিতে হবে।

এছাড়াও কাজ নামাজ পড়ার সময় শুধু মাত্র ফরজ নামাজের রাকাত টুকু পড়ে নিলেই হবে। যদি নামাজের সময় থাকে তাহলে কিন্তু এখানে কাজা নামাজ আদায় করা যাবে না সেই নামাজেই আদায় করতে হবে।

আসরের নামাজ কাজা হলে আপনি দিনের যেকোন সময় পরে নিতে পারবেন অথবা মাগরিবের নামাজ আদায় করার পরেও এই নামাজটিকে পড়ে নেওয়া যাবে।

তবে হ্যাঁ দিনের যে তিনটি সময় নামাজ পড়া সম্পূর্ণ হারাম এর বিধান রয়েছে সেই সময়গুলোতে কিন্তু কোন কাজা নামাজ ও আদায় করা যাবে না।

আসরের নামাজের নিয়ত

নামাজের শুরুতে যেহেতু আমরা নিয়ত করে অভ্যস্ত এই কারণে আপনাদেরকে এখন আমি আসরের নামাজের নিয়ত গুলো সুন্দরভাবে উল্লেখ করে দিলাম।

নিচে আপনাদের জন্য বাংলা এবং আরবি দুটোই সুন্দরভাবে বলে দেওয়া হলো। এখানে চাইলে আপনারা বাংলা নিয়ত ও করতে পারেন আবার চাইলে আরবি নিয়ত ও করতে পারেন।

তবে হ্যাঁ যদি আপনি এই নিয়ত গুলো না জেনে থাকেন তাহলে এই নিয়ত না পরলে যে আপনার গুনাহ হবে কিংবা নামাজ হবে না এরকম কোন হাদিস নেই।

আসরের চার রাকাত ফরজ নামাজের নিয়ত

বাংলায়: হে আল্লাহ আমি কিবলামুখী হয়ে এই ইমামের পিছনে আসরের চার রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করতেছি আল্লাহর উদ্দেশে, আল্লাহু আকবার।

আসরের চার রাকাত ফরজ নামাজের নিয়ত

আসরের চার রাকাত সুন্নত নামাজের নিয়ত

আসরের চার রাকাত সুন্নত নামাজের নিয়ত

শুক্রবার আসরের পরের আমল

শুক্রবারের দিনটিকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম সপ্তাহের ঈদের দিন বলে গণ্য করেছেন। এই দিনে অনেক বেশি ফজিলত রয়েছে এবং এই দিনে বেশি বেশি করে আমল করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়াও শুক্রবারের দিনটিকে আলাদা করে মর্যাদা পূর্ণ বলার ও বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেছে। তবে এই শুক্রবারের দিনে আসরের পরে বিশেষ কিছু আমলের কথা ও হাদিসের পরিষ্কারভাবে পাওয়া যায়।

দোয়া কবুল: বিভিন্ন হাদিস থেকে পাওয়া যায় যে শুক্রবারের দোয়া আল্লাহ তায়ালা কবুল করে থাকেন। তবে এই শুক্রবারের দিনে বিশেষ একটি সময় আছে যে সময়ে দোয়া করলে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

আর এই সময়টি হচ্ছে সূর্য অস্ত যাওয়ার আগের যে সময়। সূর্য অস্ত যাওয়ার আগের সময়টি হচ্ছে মূলত আসরের নামাজের পরের সময়।

তাই আমরা বলতে পারি আসরের নামাজের পর যদি আমরা মন খুলে আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করি তাহলে এই দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

দরুদ পাঠ: যদিও পূর্তি সময়ই আল্লাহর নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু শুক্রবারে এই দরুদ আরও বেশি বেশি করে পাঠ করতে নির্দেশ দেওয়া আছে।

আরো বিভিন্ন বর্ণনা থেকে পাওয়া যায় যে, শুক্রবারে আসরের পর যদি আল্লাহর নবীর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পড়া হয় তাহলে এর ফজিলত কয়েক গুণ বেশি করে পাওয়া যায়।

এই কারণে আমাদের প্রত্যেকের উচিত হবে জুমার দিনে আসরের নামাজ আদায় করার পর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি সবচেয়ে বেশি বেশি দূর পাঠ করা।

আসরের নামাজ সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর:

আমরা প্রতিনিয়ত আসরের নামাজ আদায় করে থাকলেও বিভিন্ন সময় আমাদের মাথার মধ্যে এই নামাজ সম্পর্কিত অনেকগুলো প্রশ্ন ঘুরপাক করতে থাকে।

তো আপনারা গুগলে যে সমস্ত প্রশ্ন লিখে প্রতিনিয়ত খোঁজাখুঁজি করে থাকেন সেই সমস্ত প্রশ্ন নিচে উল্লেখ করা হলো এবং তার সাথে সাথে উত্তরগুলো ও সুন্দরভাবে দিয়ে দেওয়া হলো।

আসরের নামাজ কয় রাকাত সুন্নত কয় রাকাত ফরজ?

আসরের নামাজ এর মধ্যে প্রথমে চার রাকাত সুন্নত রয়েছে এবং পরবর্তীতে চার রাকাত ফরজ নামাজ রয়েছে।

আসরের নামাজ মোট কত রাকাত?

আসরের নামাজ হচ্ছে মোট আট রাকাত।

আসরের ওয়াক্ত কখন শুরু হয়?

যখন সূর্যটি পশ্চিম দিকে ঢেলে পড়ে তখন মূলত যোহরের নামাজ এর সময় শুরু হয় এবং যোহরের নামাজ এর সময় শেষ হলে আসরের নামাজের সময় শুরু হয়।

আর যখনই জোহরের নামাজের সময়টি একদম শেষ হয়ে যায় তখন থেকেই আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়। সব থেকে সহজ পদ্ধতি হলো কোন একটি বস্তু বা কাঠির ছায়ার আকৃতি যখন অরিজিনাল কাঠির আকৃতি থেকে দ্বিগুণ বা আরাই গুণ বড় হবে তখনই আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়।

আসরের ওয়াক্ত শেষ কখন?

যতক্ষণ পর্যন্ত সূর্য অস্ত যাওয়া শুরু না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আসরের ওয়াক্ত চলতে থাকে। অর্থাৎ যখনই মূলত সূর্য অস্ত যাওয়া শুরু হয় তখনই এই আসরের ওয়াক্ত ও শেষ হয়ে যায়। কিন্তু যদি সূর্য অস্ত যাওয়া একবার শুরু হয়ে যায় তখন কিন্তু আর কোন ধরনের নামাজই আদায় করা যাবে না।

আসরের পর ঘুমালে কি হয়?

এই প্রশ্নটির উত্তর এ বিভিন্ন ওলামায়ে কেরামগণ এর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অর্থাৎ কোন কোন উলামায়ে কেরামগণ বলেছেন যে আসরের পর ঘুমালে নিজের বুদ্ধি লোপ পেতে পারে ।

আবার বিভিন্ন বর্ণনা থেকে পাওয়া যায় যে বিকেল বেলা বিশ্রাম নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে হ্যাঁ আমরা আপনাদেরকে বলব আসরের নামাজের পর যদি কোন কারণ না থাকে বা কোন সমস্যা না হয় তাহলে না ঘুমানোই ভালো হবে।

পরিশেষে

আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে পাঠকদের কে আমরা আসরের নামাজ সম্পর্কে যাবতীয় টপিকগুলো বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দিয়েছি।

এখানে আমরা আসরের নামাজের সময় নিয়ে পরিপূর্ণভাবে আলোচনা করা সহ আসরের নামাজ সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর ও প্রদান করেছি।

তো এই আসরের নামাজ সম্পর্কিত আরো কোন প্রশ্ন আপনাদের মনে থাকলে সেটা অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন এবং আপনার বন্ধুদেরকে আসরের নামাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে পোস্টটি শেয়ার করতে পারেন।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *