ডিজিটাল প্রযুক্তি ৭ম শ্রেণি সেশন ২ সমাধান - MCQ ANS

ডিজিটাল প্রযুক্তি ৭ম শ্রেণি সেশন ২ সমাধান

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় শিক্ষার্থীরা আজকের পোস্টে তোমাদের সাথে আমরা ডিজিটাল প্রযুক্তি ৭ম শ্রেণী সেশন ২ সমাধানটি শেয়ার করব। তোমাদের এই সেশনে একটি বাড়ির কাজ দেওয়া হয়েছে যেটা তোমরা অনেকেই করতে পারছ না । তোমরা চাইলে আমাদের এই পোস্টে দেখানো নিয়ম অনুসরণ করে বাড়ির কাজটি করে ফেলতে পারো।

এখানে আমাদেরকে বেশ কয়েকটি ধাপ অবলম্বন করার মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। এই সেশনটি দেওয়া হয়েছে মূলত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা এবং সেগুলোকে উপস্থাপন করার অভিজ্ঞতা বাড়াতে। কারণ ভবিষ্যতের জীবন অনেকটাই তথ্য এবং উপাত্তর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।

ডিজিটাল প্রযুক্তি ৭ম শ্রেণি সেশন ২ ধাপসমূহ

০১ দল গঠনঃ এখানে বইয়ের মধ্যে আমাদেরকে মোট দশটি দলে ভাগ হয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং এই প্রতিটি দলের মধ্যে একজন ক্যাপ্টেন থাকবে যে মূলত বক্তব্যটি সবার সামনে তুলে ধরবে।

০২ বিষয় নির্বাচনঃ আমরা যে দশটি দলে ভাগ হয়েছি আমাদেরকে একটি করে বিষয় নির্ধারণ করতে হবে । বিষয়গুলো মূলত বিভিন্ন সমস্যা হবে যেগুলো সম্পর্কে আমরা বক্তব্য সবার সামনে উপস্থাপন করব।

আরোও পড়ূনঃ ডিজিটাল প্রযুক্তি ৭ম শ্রেণি সেশন ৪ সমাধান (অভিজ্ঞতা ১)

০৩ বক্তব্যটি সঠিকভাবে তৈরি করাঃ সমস্যাটি সুন্দরভাবে বাছাই করার পর আমাদেরকে এই সমস্যার উপর সুন্দরভাবে একটি বক্তব্যের লিখন তৈরি করে নিতে হবে যেখানে সমস্যাটি সম্পর্কে প্রতিটা কথা যেন ভালোভাবে উল্লেখ থাকে। এখানে অবশ্যই মনে রাখতে হবে আমাদের এই বক্তব্যের মধ্যে যেন ৬ক এর উত্তর পাওয়া যায়।

০৪ মস্যাগুলো বাছাই করাঃ এখন আমাদেরকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ও বাছাই করতে হবে এবং এই সমস্যাটি কেন হচ্ছে তার যথাযথ কারণ খুঁজে বের করতে হবে এছাড়াও আমাদের কোন কোন আচরণ পরিবর্তন করার মাধ্যমে সমস্যাটি নির্মূল করা সম্ভব এর উপরেও তথ্য সংগ্রহ করতে হবে । আর এই কাজটি অবশ্যই দলের প্রত্যেক সদস্যকে ঠিক ঠিক ভাবে পালন করতে হবে।

ডিজিটাল প্রযুক্তি ৭ম শ্রেণি সেশন ২ এ আমাদের কাজগুলো

পাঠ্য বইয়ের মধ্যে আমাদেরকে এখানে মূলত তিনটি কাজের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। আর এই কাজগুলো হলোঃ

১। প্রথমে রিসেন্টলি ঘটা সমস্যা গুলো খুজে বের করতে হবে।

২। তারপর এই সমস্যাটি নির্ধারণ করা হয়ে গেলে সমস্যাটি কি কারণে হচ্ছে সেটির যথাযথ কারণটি খুঁজে বের করতে হবে।

৩। সর্বশেষে আমাদের কে কি কি করতে হবে এই সমস্যাটি সমাধান করার জন্য অথবা কি ধরনের পরিবর্তন ঘটালে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে এর সঠিক সমাধানটি সকলের মিলে অনুসন্ধান করে খুঁজে বের করতে হবে।

যে পদ্ধতি গুলো ব্যবহার করে এই ইনফরমেশন গুলো আমরা খুঁজে বের করতে পারিঃ

সার্ভে করার মাধ্যমে আমাদের আশেপাশে যারা অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ আছে যেমন আমাদের অভিভাবক হতে পারে এছাড়াও অন্যান্য শিক্ষক বা আমাদের বড় ভাই হতে পারে তাদের কাছে গিয়ে আমাদের এলাকায় কি কি সমস্যা আছে বা আমাদের সমাজে কি কি সমস্যা হচ্ছে সেগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে হবে যেন তারা কোন তথ্য আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারে।

এছাড়াও আমরা চাইলে ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে খুব সহজেই এই ইনফরমেশন গুলো খুঁজে পেতে পারি । তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের পত্রিকার রয়েছে যেগুলো পড়লে সমস্যা বের করা যাবে এছাড়া টেলিভিশন রেডিও সহ আমরা যতদূর পর্যন্ত তথ্য খুঁজে বের করতে পারি তার সব কিছুই দেখতে হবে। মনে রাখতে হবে আমরা সেই সমস্ত সমস্যাগুলোই চিহ্নিত করব যে সমস্যাগুলো ভালোভাবে জানবে এবং ইন্টারনেট বা বিভিন্ন টেলিভিশন এর মাধ্যমে এই সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুঁজে পাওয়া যাবে ।

ডিজিটাল প্রযুক্তি ৭ম শ্রেণি সেশন ২ সমাধান

তোমরা যারা নিজে নিজে উপরিউক্ত সমস্যাটি খুঁজে বের করতে পারছো না এবং এই সমস্যা সম্পর্কে কোন বক্তৃতা ও নির্ধারণ করতে পারছ না তাদের জন্য এখন নিচে আমরা সুন্দরভাবে এই ডিজিটাল প্রযুক্তির ৭ম শ্রেণী সেশন ২ সমাধানটি তুলে ধরব।

এখানে আমরা বইয়ের মত করে সুন্দর ভাবে ছক আকারে তোমাদের জন্য নমুনা হিসেবে দিয়েছি তোমরা চাইলে এইভাবে বাড়ির কাজটা সমাধান করতে পারো। আমরা এখানে যে সমস্যাটি নিয়ে বক্তৃতা লিখে দেবো চাইলে এই সমস্যাটি তোমরা শ্রেণীকক্ষে আলোচনা করতে পারো অথবা তোমাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকেও এই বক্তৃতাটি লিখে নিতে পারো ।

বিষয় নির্বাচনঃ নিরক্ষরতা

আমাদের দলের নাম নীলকন্ঠ
আমরা যে বিষয়টি নিয়ে কাজ করব  নিরক্ষরতার কুপ্রভাব ও সমাধান
আমাদের দলের সদস্যদের নাম : ১। তাসলিমা

২। শাকিল

৩। আশরাফুল

৪। মেঘা

৫। লামিয়া

৬। মুশফিক

৭। আসামনি

৮। আসাদুল্লাহ

৯। গালিব আকন্দ

১০। সাবিনা আক্তার

বক্তৃতার মাধ্যমে সমস্যা নির্ধারণ

বক্তৃতার বিষয়: নিরক্ষরতার কুপ্রভাব ও সমাধান

আমাদেরকে মনে রাখতে হবে যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সে জাতি তত বেশি উন্নত। বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলে অনেক ছেলেমেয়েরায় স্কুলে না গিয়ে বাড়িতে অশিক্ষিত হয়ে বসে থাকে। যদি আমরা বর্তমান প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে না পারি তাহলে ভবিষ্যতে এর ফল হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। বিশেষ করে গ্রামের মেয়েদেরকে তাদের বাবা-মা অনেকেই স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিতে চায় না । তারা মনে করে মেয়েদের বেশি উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন নেই, কিন্তু তাদের এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল।

কারণ মেয়েরা যত বেশি শিক্ষিত হতে পারবে তারা তাদের সন্তানকে তত বেশি শিক্ষাদান করতে পারবে। অনেক মা-বাবা আছে যারা তাদের ছোট সন্তানদেরকে স্কুলে না পাঠিয়ে বিভিন্ন কাজের জন্য পাঠিয়ে দেয় টাকা ইনকামের জন্য যেটা তারা সঠিক কাজ করছে না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ভবিষ্যৎ জাতি অনেকটা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

সকল মানুষ এই শিক্ষা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান রাখে না তাদের কাছে গিয়ে আমাদেরকে এই বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে বোঝাতে হবে। তারা যেন তাদের সন্তানদেরকে উচ্চ শিক্ষার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নেয় এবং স্কুলে পাঠিয়ে দেয় । আবার অনেকে আছে শুধুমাত্র স্কুল পাশ করিয়ে তাদের সন্তানদেরকে আর উচ্চশিক্ষা দান করেনা যেটাও তারা ঠিক কাজ করছে না।

গ্রামাঞ্চলে এই সমস্যা বেশি রয়েছে এই কারণে আমাদেরকে অবশ্যই আশেপাশের মানুষদেরকে সুশিক্ষা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। যাতে তারা ভবিষ্যতে তাদের সন্তানকে উচ্চ শিক্ষা দান করে সে ব্যাপারে যথেষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে । যদিও আমাদের দেশের সরকার শিক্ষা খাতে অনেক বেশি ব্যয় করছে শিশুদেরকে শিক্ষা দান করার জন্য এরপরেও যারা এ সম্পর্কে অবগত নয় তাদেরকে অবশ্যই ভালোভাবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করতে হবে। আমরা যদি এখন থেকেই নিজেদের চিন্তাধারা বদলে ফেলতে পারি তাহলে ভবিষ্যতে এই জাতি অনেক বেশি উন্নত হবে।

আরোকটি ডিজিটাল প্রযুক্তি ৭ম শ্রেণি সেশন ২ সমাধান

বিষয় নির্বাচনঃ বাল্যবিবাহ

আমাদের দলের নাম বাল্যবিবাহ
আমরা যে বিষয়টি নিয়ে কাজ করব  বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর দিক প্রচার ও সচেতনতা বৃদ্ধি
আমাদের দলের সদস্যদের নাম : ১। মাসুমা

২। আরিফুল

৩। আশরাফুল

৪। মেঘা

৫।  ববিতা

৬। মুশফিকুর রহিম

৭। সাকিব

৮। আসাদুল্লাহ

৯। আরিফা

১০। সাবিনা আক্তার

বক্তৃতার মাধ্যমে সমস্যা নির্ধারণ

বক্তৃতার বিষয়: বাল্যবিবাহর কুপ্রভাব ও সমাধান

যদিও আগের থেকে এখন বর্তমানে বাল্যবিবাহের পরিমাণ অনেকটা কমেছে কিন্তু এরপরেও অনেক জায়গায় এই বাল্যবিবাহের প্রচলন রয়েছে । বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলের মেয়েদের পিতামাতাদের মধ্যে এই বিষয়টি বেশি লক্ষ্য করা যায়। বাল্যবিবাহের ফলে একটি জাতির অনেক বেশি ক্ষতি হয়ে যায় যেটা অনেক মা বাবাই জানে না।

বিভিন্ন গবেষণা করে দেখা গেছে যেসকল ছেলে-মেয়েদের বাল্য বিবাহ হয় তারা ভবিষ্যৎ জীবনে অনেক বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয় এবং তাদের অসুখ-বিসুখের পরিমাণ ও অনেকাংশে বেড়ে যায় । বাল্যবিহার ফলে শিশুদের ভবিষ্যৎ পুরোটাই নষ্ট হয়ে যায়। 10 থেকে 15 বছর বয়সে যখন একটি ছোট মেয়ের বিবাহ হয়ে যায় তখন সে নিজেও জানে না যে তার পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে।

তারা নিজেরাই বুঝতে পারে না যে তাদেরকে এখন কি করতে হবে এই কারণে ভবিষ্যৎ জীবন তাদের হয়ে যায় উপকার। বাবা মারা সন্তানদেরকে এমন সময়ে বিবাহ দেয় যখন তারা নিজেরাই নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম নয় । এমত অবস্থায় যদি তাদের বিবাহ প্রদান করা হয় তাহলে তারা ঠিক দিশেহারা হয়ে যায় যে এখন তাদেরকে কি করতে হবে।

আর যারা ছেলেদের মধ্যে একবার পড়ে যায় তারা সেখান থেকে আর বের হতে পারে না। তারা নিজেরাই বর্তমানে শিশু রয়েছে এরই মধ্যে আবার খুব অল্পদিনের মধ্যে সন্তান জন্ম দেয় যেটা তাদের শরীরের অনেক বেশি ক্ষতি করে দেয়। এভাবে যখন তারা প্রথম সন্তানের মা হয়ে যায় তখন সে তার শরীরের স্বাস্থ্য অনেকাংশে হারিয়ে ফেলে ।

এছাড়াও বাল্যবিবাহের ফলে সেই সন্তানদের আর পড়ালেখা হয় না যার ফলে সে সুশিক্ষা অর্জন করতেও সক্ষম হয় না। আবার যদি তার পরিবার থেকে যৌতুকের চাপ দেওয়া হয় তাহলে আরো বিষয়টা বেশি ভয়ংকর হয়ে যায়। বাল্যবিবাহ দেওয়ার ফলে পিতা মাতারা তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতেছে তেমনি তারা নিজেদেরও বড় বিপদ ডেকে নিয়ে আসতেছে।

যে সকল গ্রামে বাল্যবিবাহের প্রচার বেশি রয়েছে সেখানেই আমাদেরকে অবশ্যই এই বিষয়ে হবে তাদের মা-বাবাদেরকে। তাদেরকে বুঝাতে হবে যে সরকার যে বয়সটি নির্ধারণ করে দিয়েছে বিবাহ দেওয়ার জন্য সেই বয়সের আগে যেন তারা তাদের সন্তানদেরকে বিবাহ না দেয়। এভাবে বললে হয়তো তারা বুঝবে না তাদেরকে অবশ্যই বাল্যবিবাহ দেওয়ার যে ক্ষতিকর দিকগুলো রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে খুব ভালো।

প্রতিটা গ্রামে গ্রামে গিয়ে বিভিন্ন সেমিনার করতে হবে যেখানে প্রতিটা ছোট ছেলে মেয়ে এবং তাদের মা-বাবাকে নিয়ে এসে সুন্দর ভাবে বাল্যবিবাহ এর ক্ষতি সম্পর্কে বুঝিয়ে দিতে হবে। এভাবে প্রতিটা পদক্ষেপ সঠিকভাবে গ্রহণ করা হলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

পরিশেষেঃ ডিজিটাল প্রযুক্তি ৭ম শ্রেণি সেশন ২

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা আশা করি আজকের এই পোস্ট পড়ার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের বইয়ের ডিজিটাল প্রযুক্তি ৭ম শ্রেণীর সেশন ২সমাধানটি পেয়ে গেছো । এখানে আমরা তোমাদের ডিজিটাল প্রযুক্তি ৭ম শ্রেণি সেশন ২ অভিজ্ঞতায় ১ এর সমাধান দিয়েছি। পুরো পোস্ট টি পড়ার পরে যদি তোমরা কোন কিছু বুঝতে না পারো তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে জিজ্ঞেস করবে।

আর হ্যাঁ অবশ্যই তোমরা চাইলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারো যে আর কোন কোন সেশন এর সমাধান লাগবে , আমরা সেই ভাবে প্রতিটা সেশনের সমাধান সুন্দরভাবে পোস্ট করে দেবো।

Leave a Comment